Showing posts with label বাংলা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা. Show all posts

Sunday, March 4, 2007

ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের তপসে মাছ কবিতা


বাঙালির মাছ প্রীতি সর্বজন বিদিত। ভাজা মাছের গন্ধ পেলে প্রফেসর শংকুর অবিনাশ বাবুর মতো বাঙালিদের আর বেড়ালের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।

আজ উনিশ শতকের কবি ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের তপসে মাছ কবিতাটা পড়তে গিয়ে এটাই মনে হলো।


কষিত-কনককান্তি কমনীয় কায়।
গালভরা গোঁফ-দাড়ি তপস্বীর প্রায়॥
মানুষের দৃশ্য নও বাস কর নীরে।
মোহন মণির প্রভা ননীর শরীরে॥

পাখি নও কিন্তু ধর মনোহর পাখা।
সমধুর মিষ্ট রস সব-অঙ্গে মাখা॥
একবার রসনায় যে পেয়েছে তার।
আর কিছু মুখে নাহি ভাল লাগে তার॥

দৃশ্য মাত্র সর্বগাত্র প্রফুল্লিত হয়।
সৌরভে আমোদ করে ত্রিভুবনময়॥
প্রাণে নাহি দেরি সয় কাঁটা আঁশ বাছা।
ইচ্ছা করে একেবারে গালে দিই কাঁচা॥
অপরূপ হেরে রূপ পুত্রশোক হরে।
মুখে দেওয়া দূরে থাক গন্ধে পেট ভরে॥

কুড়ি দরে কিনে লই দেখে তাজা তাজা।
টপাটপ খেয়ে ফেলি ছাঁকাতেলে ভাজা॥
না করে উদর যেই তোমায় গ্রহণ।
বৃথায় জীবন তার বৃথায় জীবন॥

নগরের লোক সব এই কয় মাস।
তোমার কৃপায় করে মহা সুখে বাস॥

Wednesday, February 28, 2007

বঙ্গবাণী - আবদুল হাকিমের কাব্য

মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যের এই অংশটি আগে অনেকে পোস্ট করেছেন, কিন্তু তবুও আমার খুব পছন্দের কাব্য বলে আবারো পোস্ট করছি

কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।
সে সবে কহিল মোতে মনে হবিলাষ॥
তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন॥

আরবি ফারসি শাস্ত্রে নাই কোন রাগ।
দেশী ভাষা বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ॥
আরবি ফারসি হিন্দে নাই দুই মত।
যদি বা লিখয়ে আল্লা নবীর ছিফত॥

যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ।
সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন॥
সর্ববাক্য বুঝে প্রভু কিবা হিন্দুয়ানী।
বঙ্গদেশী বাক্য কিবা যত ইতি বাণী॥

মারফত ভেদে যার নাহিক গমন।
হিন্দুর অক্ষর হিংসে সে সবের গণ॥

যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় জানি॥
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ যায়॥

মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি।
দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি॥

সূত্রঃ দীপায়নের সাইট

উইকিপিডিয়াতে সরাসরি লিখুন বাংলা

বাংলা উইকিপিডিয়াতে লেখার জন্য অনেক দিন ধরেই আহবান জানাচ্ছি সবাইকে। এই ব্লগে লেখার পরে কেউ কেউ গিয়েছেন, যদিও আরো অনেকে গেলে ভালো হতো। যাই হোক, একটা বড় অভিযোগ ছিলো, বাংলা লিখতে হলে অভ্র বা এধরণের কিছু ইন্সটল করতে হয়। অনেকেই কর্মক্ষেত্রে বা অন্যত্র বাংলা সফটওয়ার ইন্সটলের ঝামেলাতে যেতে চাননা বলে আর লিখতে পারেননি।

এই সমস্যার সমাধান করতে বাংলা উইকিপিডিয়াতে এখন সরাসরি বাংলা ইউনিকোড লেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলা উইকিপিডিয়ার কর্মী ও প্রশাসক অর্ণব জাহিন জাভাস্ক্রিপ্ট এর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা যোগ করেছেন। যেকোনো পৃষ্ঠা সম্পাদনার মোডে খুললেই উপরে একটি চেক বক্স পাবেন, বাংলায় লিখতে চাইলে ওতে টিক দিয়ে দিন। অথবা আরো সহজে, এস্কেপ চাপুন, তাহলে বাংলা চালু হবে, আবার এস্কেপ চাপলে ইংরেজি/স্বাভাবিক মোডে ফেরত যাবেন।

এর ফলে এখন বাংলা উইকিপিডিয়াতে লেখালেখি করাটা অনেকের জন্যই সহজ হবে বলে আশা করছি। প্রাথমিকভাবে আমরা কেবল অভ্র ফোনেটিক মোড রেখেছি (যা সামহয়ারইনব্লগের ফোনেটিকের খুব কাছাকাছি)।


তাই, সফটওয়ার ইন্সটল করতে হবে, এই ভয়ে যারা উইকিপিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন, তাঁরা এখন চলে আসুন আমাদের এই প্রজেক্টে। খুব শিঘ্রই আমরা একটা বড় প্রজেক্টে হাত দিতে যাচ্ছি, অচিরেই আমি এর ঘোষণা দিবো। বাংলাতে
লেখা বিশ্বকোষ ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমাদের উপহার হয়ে থাকবে।


Tuesday, February 27, 2007

দেশবিভাগ - সুফল ও কুফল

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগে কিছু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ছাত্র ছাত্রী রয়েছে। ওদের সাথে নিয়মিত দেখা হলেই আমরা প্রাণ খুলে বাংলায় কথা বলি। যদিও কথার আঞ্চলিক টান দুই বাংলায় দুই রকম, তবু বাংলা ভাষার এই পুরানো বন্ধন এক করে রাখে বাঙালিদের।

তাই মাঝে মাঝে মনে হয়, ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ আমাদের কী সুফল দিয়েছে, আর কী সর্বনাশ ডেকেছে।

সুফলের মধ্যে প্রথমেই আসে পূর্ববঙ্গের উন্নতি। হ্যাঁ, পাকিস্তানী আমলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে, কিন্তু তবুও তো পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় একটা দুটো করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বুয়েট একটা স্থানীয় কলেজ হতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। কলকাতাকেন্দ্রীক রাজনীতির জন্য পূর্ববঙ্গ সব সময় অবহেলিত হয়েছিলো, নগরায়ন, শিল্পায়ন সব দিকেই পিছিয়ে ছিলো। অন্তত সে দিক হতে আলাদা হয়ে পূর্ববঙ্গ নতুন দিক নির্দেশনা পেয়েছে। এখানকার সংখ্যালঘুদের অনেক সমস্যা হয়েছে, কিন্তু পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের ব্যাপক সামাজিক, শিক্ষাগত সাংস্কৃতিক উন্নতি হয়েছে। আজকেই প্রথম আলোতে আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা পড়ছিলাম, উনি লিখেছেন, দেশভাগের পরে পঞ্চাশের দশক হয়েছিলো বাঙালি মুসলমানের বাঙালি হয়ে ওঠার সময়, আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার সূচনার সময়।

এবার আসি কী সর্বনাশ হয়েছে। পূর্ববঙ্গের এক বিশাল বুদ্ধিজীবী, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশ ভাগের সময় পরের বছরগুলোতে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। নিজের দেশ ছাড়তে তাঁদের কী পরিমাণ কষ্ট হয়েছে, তা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব না কোনোদিনই। আজো অনেক পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির সাথে কথা হলে তাঁরা আমাকে বলেন, তাঁদের বাবা বা মার বাড়ি চট্টগ্রাম, বা বরিশাল, আজো তাদের বাবা-মায়েরা পূর্ববঙ্গের দেশের বাড়ির কথা বলেন। আমরা হারিয়েছি জীবনানন্দ দাশ, অমর্ত্য সেন, মেঘনাদ সাহা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, এদের। পশ্চিমবাংলার বর্তমানের প্রচন্ড খ্যাতনামা অনেক সাহিত্যিকের বাড়িই কিন্তু পূর্ববঙ্গে।

আরবানার টেগোর ফেস্টিভ্যালে সুনীল আর মমতাজউদ্দিন এসেছিলেন। দুজনের কথাতেই এই বেদনার প্রকাশ ঘটলো। সুনীলের বাড়ি ফরিদপুরে, আর মমতাজউদ্দিনের বাড়ি মালদহে। ৪৭ এর দেশ বিভাগের পরে দুজনেই নিজের মাটি ছেড়ে চলে গেছেন পরদেশে। সুনীলকে কাছ থেকে দেখে সহজেই দেখতে পেলাম, সেই বাঙ্গাল চেহারার ছাপ। কথাতেও আজও কলকাতার প্রভাব অতটা লাগেনি।

অমর্ত্য সেনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি পুরানো ঢাকায়। সেরকমই জ্যোতি বসুর বাড়ি।

এভাবে দেশ ভাগের ফলে আমাদের বাঙালি সত্ত্বা দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়েছে আজ।

অবশ্য, সুফল কুফল বিচার করে দেশ বিভাগ না হলে কী হতো, তা বলাও কঠিন। দেশ ভাগ না হলে অমর্ত্য সেন হয়তো ঢাকার অর্থনীতিবিদ হিসাবে আমাদের খুব কাছে থাকতেন, কিন্তু দুলা মিঞা সওদাগরের ছেলে মুহাম্মদ ইউনুস হয়তো ডঃ ইউনুস হতে পারতেন না, সুযোগের অভাবে।

যাহোক, অনেক লম্বা করে ফেললাম কথা। আসলে একটু আগে আমার অ্যালবামে সুনীল আর মমতাজউদ্দিনের সেই ব্যথিত চাহনির ছবিগুলো চোখে পড়লো, তাই এতো কথা এলো মনের মাঝে। হাজার পাসপোর্ট আর কাঁটা তারের বেড়া সত্ত্বেও দুজনেই বাঙালি, বাংলার মাটির সাথেই নাড়ির টান।

[লেখাটি সামহয়ারইনব্লগে ২০০৭/২/২৭ তারিখে প্রকাশিত]