Friday, March 9, 2007
মাছ
বিদেশ বিভুঁইয়ে থাকি, সমূদ্র হতে প্রায় হাজার খানেক মাইল দূরে। আর প্রেইরি ঘাসের মাঠের মধ্যে নদী নালাও নেই। তাই তাজা মাছ কপালে জুটেনা, রুই-ইলিশ কিনতে হলে শ দেড়েক মাইল দূরে যেতে হয় বাজার করতে।
তাই মন্দের ভালো হিসাবে আবিষ্কার করেছি "বাটার ফিশ"। চীনাদের দোকানে এই মাছটা পাওয়া যায়। দেখতে অনেকটা রূপচান্দার ছোট সংস্করণ। অবশ্য অতো প্রস্থে বেশি না। কিন্তু আঁশ ছাড়াবার ঝামেলা নেই, আর পরিষ্কার করাটা খুব সহজ।
আমার স্ত্রীর কাছ থেকে রান্নার কৌশল শিখেছি, ও দেশে বেড়াতে যাওয়াতে কাজে লাগছে। মাছটার মাথা ফেলে দিয়ে, পেটের নাড়িভুড়ি এক টানেই সাফ করে ফেলা যায়। তার পর মশলা মাখিয়ে ঘন্টা খানেক রেখে দেই। এর পরে প্রচুর পিয়াঁজ দিয়ে ভাজা। চমৎকার লাগে খেতে, পুরা রূপচান্দা ভাজার স্বাদ।
অবশ্য, ইলিশ মাছ ভাজার সাথে এর কোনো তুলনাই হয় না ...
Wednesday, February 21, 2007
আমেরিকার উল্টোরথ
আমি ভেবেছিলাম চাপা। রাস্তায় গাড়ি ডানদিকে চলে, এটা তো ছোট বেলা থেকেই নাইট রাইডার সিরিজ দেখে শেখা। কিন্তু অন্য আর কী হতে পারে?
এখানে এসে দেখলাম, ঘটনা সত্যি। প্রথম কয়েকদিন ডিপার্টমেন্টের করিডোরে হাঁটার সময় বিভিন্ন মানুষের সাথে ধাক্কা লাগার উপক্রম। তার পর বুঝলাম, হাঁটার সময়ও ডান দিকে করে চলতে হবে, আমি অভ্যাস বশত বাঁ দিকেই হাঁটছিলাম।
রাস্তা পার হবার সময় দেশে বলা হয়, ডানে বামে তাকাতে। কারন দেশে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি তো ডান দিক থেকেই আসবে। এখানে উল্টা, আগে বামে, তারপর ডানে। (আমার এক মার্কিনী বন্ধুকে বলেছিলাম, ও বললো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনারা যারা ইংল্যান্ডে পোস্টেড ছিলো, তাদের অনেকেই শুরুতে খালি গাড়ি চাপা পড়তো। কারণ এটাই)।
এর পর ধরা যাক বাতির সুইচ। যথারীতি উপরে উঠালে জ্বলে, নীচে নামালে নিভে। প্লাগ পয়েন্টে ৩ পিন থাকলে আর্থের পিনটি নীচের দিকে।
ঘরের চাবি। দেশে সাধারনত খাঁজ কাটা অংশটা নীচে রেখা চাবি ঢুকাই, তাই না। এখানে তার উল্টা।
এক মাস কাটিয়ে দেশ থেকে ফিরে এসে প্রথম বার গাড়ি চালাতে গিয়ে অস্বস্তি হচ্ছিলো একটু। যাক অল্প পরেই আবার উল্টো রথের দেশে মানিয়ে গেছি।
[লেখাটি সামহয়ারইনব্লগে ২০০৭/২/৩ তারিখে প্রকাশিত]
বরফ চাপা চৌরাস্তা
তুষারপাত আমার একদম ভালো লাগে না। এক মার্কিন ছেলেকে বলেছিলাম এই কথা, আরো বলেছিলাম যে বরফের একমাত্র স্থান হলো ডীপ ফ্রিজের ভিতরে। এটা বলাতে ব্যাটা বেশ নাখোশ হয়েছিলো, পরে শুনেছিলাম ওর বাড়ি আলাস্কাতে।
যাহোক, ছবিটা দেখুন, গত রবিবার জানালার কাঁচটা তুলে গলা বের করে তুলেছিলাম। স্টপ সাইন বরাবর অংশটি রাস্তা, যদিও আশে পাশের সবকিছু একই রকম মনে হচ্ছে। আসলে স্টপসাইনের জায়গাটা একটা চৌরাস্তা। দেখে কি বুঝতে পারছেন সেটা?
এবছর বরফ নাকি গড়ে কম পড়ছে, কিন্তু এক দিনে সাড়ে চার ইঞ্চি বরফ পড়াতে এই দশা। তুলার মতো বরফ, উড়ে উড়ে আসাতে অনেক খানে আরো গভীর। বাসার সামনের অনেক স্থানে তো পা ফেললে প্রায় ১ ফুট দেবে যাচ্ছে। আর রাতের বেলা -১৫ সেঃ তো স্বাভাবিক তাপমাত্রা হয়ে দাড়িয়েছে।
গরম কালের অপেক্ষায় আছি। আপাতত শীতনিদ্রা যেতে পারলে মন্দ হতো না।
[লেখাটি সামহয়ারইনব্লগে ২০০৭/২/৯ তারিখে প্রকাশিত]
Tuesday, February 20, 2007
অতিথি পাখি, অতিথি আমি
দেশে যখন গেলাম মাস খানেকের জন্য, সব কিছু অন্যরকম লাগলো। আমার বুয়েট জীবনে দেখা ঢাকা শহর আরো অনেক ডেভেলপার-নির্মিত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ছেয়ে গেছে। আমার বাবা মাও একাকীত্ব এড়াতে চট্টগ্রামের আমাদের বাগানে ঘেরা বাড়িটা ছেড়ে দিয়ে এরকম একটা অ্যাপার্টমেন্টে এসেছেন।
যাহোক, এটা আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য না। দেশে গিয়ে একটা অনুভূতি মনে এসেছিলো, সেটাই বলতে চাই। দেশে গিয়ে বুয়েটে আমার প্রাক্তন সহকর্মীদের সাথে দেখা করলাম, আত্মীয়দের সাথে দেখা করলাম, অনেক বাজারে ঘুরাঘুরি করলাম। সেমিনারে বক্তব্য রাখলাম।
কিন্তু তার পরেও নিজেকে মনে হচ্ছিলো অতিথি পাখির মতো। বছরে একবার অল্প সময়ের জন্য দেশে যাওয়া, ওখানে স্থানীয় সব খবরাখবর পাওয়া, সব কিছু পাল্টে গেছে বলে বকের মতো মাথা নাড়তে থাকা। খেয়াল করে দেখলাম, প্রবাস থেকে ছুটিতে যারা গেছেন, সবাইকে দেখেই ঐ অতিথি পাখির মতো মনে হচ্ছে। স্থানীয় পাখিদের সাথে দেখা সাক্ষাত, সর্বশেষ ভ্রমণের পরে কি কি পাল্টেছে তা নিয়ে গবেষণা, এরকম।
কবে যে এই অতিথি পাখিত্ব ঘুঁচবে, কবে আবার মনে হবে :
হয়তোবা হাঁস হবো, কিশোরীর, ঘুঙুর রহিবে লাল পায়“
(জীবনানন্দ, আবার আসিব ফিরে)
[লেখাটি সামহয়ারইনব্লগে ২০০৭/২/২০ তারিখে প্রকাশিত]